নিজেই বানান যেকোনো ধরনের বা ডিজাইনের ওয়ার্ডপেস সাইট সম্পূর্ণ ডিজাইন {পর্ব১-১৪} By গিয়াস।

আমি গিয়াস। আমি ওয়ার্ডপেস এর কাজ পারি আমি আজ {১-১৪} পার্ট নিয়ে ফুল যেকোনো কাজ শেষ করবো। আমি শুধু আপনাদের মতামত আশা করবো। আপনাদের উৎসাহ পেলে ৫ দিনে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করবো।আজকের পার্টে জ্ঞান লাভ করুন কাল থেকে কাজ শুরু। কারন ধারনা না থাকলে ভালো ভাবে কাজ করতে পারবেন না।

কমেন্ট করে পাশে থাকবেন।

প্রথমে জিনিসটা একটু ক্লিয়ার করা যাক, আসলে ওয়ার্ডপ্রেস জিনিসটা কি; দুইভাবে উত্তরটা দেওয়া যায়। যদি আমি প্র্যাকটিকালি উত্তরটা দিতে যাই তাইলে বলা যায়, ‘ওয়ার্ডপ্রেস হইল গরীবরে ধনী আর ধনীরে গরীব বানানের সবচেয়ে সুন্দর জিনিস’; এখন আপনি আমারে প্রশ্ন করতেই পারেন, ‘এই বাক্যের মানে কি’; বুঝায় বলি – এই ধরেন কয়েক বছর আগেও ‘ওয়েব ডেভেলপার’ সম্প্রদায় ছিল বিরাট বড়লোক শ্রেণীর মানুষ; ধরেন আপনে ওয়েবসাইট বানাইবেন আপনের কোন কাজের জন্য, তো কি করতে হবে? ওয়েব ডেভেলপার এর পায়ে যাইয়া পড়তে হবে, হাউমাউ কইরা কাইন্দা বলতে হবে ভাই এক খান ওয়েবসাইট বানায় দেন না সুন্দর কইরা। এরপর ওয়েব ডেভেলপাররে আপনি বিরাট পরিমান একটা টাকা দিবেন, এরপর উনি সাইট বানায় দিবেন, মেইন্টেইন করবেন, আরও কত কি কাহিনী; শেষ পর্যন্ত দ্যাখা গেল একটা মাত্র সুন্দর ওয়েবসাইট বানাইতে আপনার ২৫-৩০ হাজার টাকা বাইর হইয়া গেল; আর ওয়েব ডেভেলপার সাহেব মুচকি হাইসা তার লাভের অংশ হিসেবে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ২৮ হাজার টাকাই নিয়ে গেল; এমনে তারা ধীরে ধীরে হইয়া গেল বিরাট বড়লোক।

তখন-ই আগমন এই ওয়ার্ডপ্রেস সাহেবের, উনি আইসা রাতারাতি ভোল পাল্টায় দিলেন; এখন আপনি যদি ওয়েবসাইট বানাইতে চান তাইলে খুব বেশী হইলে দেড় হাজার টাকাই যথেষ্ট, কোন ওয়েব ডেভেলপার এর ধারে কাছেও আপনার যাইতে হবে না ওয়েবসাইট বানাইতে; বাসায় বইসা বইসা নিজেই করতে পারবেন সব। উপরি পাওনা হইল, আপনি জিনিসটা একটু ভালোভাবে জানলে ফ্রীল্যান্সিং কইরা আয় ও করতে পারবেন। বাংলাদেশের হাজার হাজার ছেলে মেয়ে এখন এই ওয়ার্ডপ্রেস জানা থাকার কারনেই দিনে দুপুরে হাজার টাকা আয় করতেছে। এই কারনেই প্রথমেই বলছিলাম, ওয়ার্ডপ্রেস ধনী ওয়েব ডেভেলপারদের গরীব করে দিছে আর গরীব পোলা পাইনরে টাকা পাওয়ার একটা বিরাট পথ করে দিছে।

তো এই গেল ফাইজলামি কথা বার্তা সমূহ, এখন চলেন যাওয়া যাক তত্ত্বীয় কথা বার্তায়, মানে থিওরি –

ওয়ার্ডপ্রেস কি?

প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়ার্ডপ্রেস ছিল একটা ব্লগিং প্লাটফর্ম। মানে আপনের একটা ব্লগ অ্যাড্রেস থাকবে, সেইটাতে আপনি ব্লগিং করবেন। ধরেন আপনে একটা ব্লগ খুললেন প্রথম আলো ব্লগে, আপনের খুব ইচ্ছা এইখানে ব্লগ লেইখা ফাটায় ফেলবেন। তো আপনে একটা ব্লগ লেখলেন, লেখলেন “আমার নাম মুকলেস, আমার বাম হাত এইটা, আমার পাঁচটা আঙ্গুল আছে, আমার দুইটা হাত, দুইটা পা……”; তো এই ব্লগ লেখার পরে আপনে পোস্ট কইরা দিলেন; দ্যাখা গেল ব্লগের মডারেটর সাহেব আপনের সব লেখা কাইট্টা ছাইটা লেইখা রাখছে “আমি মুকলেস”; এই দেইখা আপনি হতাশায় ডিসিশন নিলেন যে এই ব্লগের সাথে আপনে আর নাই, আপনি নিজের ব্লগ খুলবেন, নিজের যা মন চায় তাই লিখবেন। প্রথম দিকে ওয়ার্ডপ্রেস আপনাকে এই ব্লগ খোলার ই সুযোগ কইরা দিত।

দিন পাল্টাইছে, পাল্টাইছে ওয়ার্ডপ্রেস; পালটাইতে পালটাইতে ওয়ার্ডপ্রেস এখন মহিরুহ। টাইমস এর হিসাব মতে এখন সারা দুনিয়ায় প্রায় ৫৩ ভাগ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো। কারন এইটা দিয়ে সাইট বানাইতে কোন কোডিং জানা লাগে না, মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে যেভাবে লেখা যায়, ওয়ার্ডপ্রেসেও একইভাবে লেখা যায়, এর উপর আছে হাজার ধরনের প্লাগিন্স; যেইটা দিয়ে আপনি আপনার ওয়েবসাইট সাজাইতে পারবেন মনের মত। আর ওয়ার্ডপ্রেস এর সবচেয়ে অসাধারণ দিক হইল এইটা পুরা ফ্রী। এক টাকাও কেউ চাইব না আপনের কাছে কোন দিন।

ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রকারভেদ –

ওয়ার্ডপ্রেস মূলত দুই ধরনের সার্ভিস প্রোভাইড করে, দুইটাই ফ্রী –

১. wordpress.com

২. wordpress.org

১. wordpress.com

wordpress.com এ আপনি একটা ফ্রী সাবডোমেইন পাবেন, প্রায় ২ জিবির মত হোস্টিং পাবেন, আর পাবেন ওয়ার্ডপ্রেস এর নির্দিষ্ট করে দেয়া কয়েকটা ডিজাইন, যেগুলার কেতাবি নাম ‘ওয়ার্ডপ্রেস থিম’; আপনি যেভাবে নরমাল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলছেন ঠিক সেইভাবে নরমালি আপনি wordpress.com এ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন আর ধুমায় ব্লগিং করতে পারেন। তবে এর সমস্যাও আছে, wordpress.com এ খোলা সাইট বা ব্লগে আপনি কোন ধরনের চেঞ্জ করতে পারবেন না, প্লাস আপনাকে যেই ওয়েবসাইট ঠিকানা দেওয়া হবে সেইটা হবে এইরকম – mukhles.wordpress.com

২. wordpress.org

এখন ধরা যাক আপনের উপরের অ্যাড্রেস টা (mukhles.wordpress.com) পছন্দ হয় নাইক্কা। আপনি বানাইতে চান www.mukhles.com সেই ক্ষেত্রে আপনার ইউজ করতে হবে wordpress.org; এইটা করার জন্য রেজিস্ট্রেশন এর কোন বালা মুসিবত নাই; জাস্ট একটা ডোমেইন আর একটা হোস্টিং লাগবে। wordpress.org দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট বানানো যায় সেইটাই শিখব আমরা আমাদের আসন্ন টিউটোরিয়াল এ। আমরা এই পুরা টিউটোরিয়ালে একটা পেইড ডোমেইন এবং হোস্টিং ইউজ করব। আপনারা চাইলে বা আপনাদের থাকলে আপনারাও পেইড ডোমেইন হোস্টিং প্র্যাকটিসের জন্য ইউজ করতে পারেন, বা অনেক ফ্রী হোস্টিং এবং ডোমেইন কোম্পানি আছে যারা ফ্রী তে আপনাদের ডোমেইন হোস্টিং দিবে, সেইটাও ইউজ করতে পারেন। আমি নিচে কিছু লিস্ট দিয়ে দিলাম, এছাড়াও অনেকে আছে কিন্তু ফ্রী দেওয়ার ক্ষেত্রে এরাই বেস্ট। অবশ্য আপনি যদি কোন প্র্যাক্টিস না কইরা শুধুই শিখতে চান সেই ক্ষেত্রেও প্রবলেম নাই, জাস্ট টিউটোরিয়াল আর ভিডিও ক্লিপস গুলা খুব মন দিয়া খেয়াল কইরেন।

ফ্রী ডোমেইন – .Ml And. Gaডোমেইন

ফ্রী হোস্টিং – FreeHostia, 000webhost

কেন ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করা সবচেয়ে ভালো –

১. সর্বনিম্ন নিজের একটা ডোমেইন আর হোস্টিং থাকলেই আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করতে পারবেন।

২. মূলত ওয়েবসাইট তৈরি করতে HTML, PHP, CSS – এই কোডিং গুলো লাগে। যদি আপনি এই কোডিং এর ‘ক’ ও না জানেন, তারপরও আপনি অতি অসাধারন একটা ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন এই ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করে।

৩. গুগলে সার্চ দিলে আপনি লাখের উপরে ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন পাবেন, যেগুলো আপনি খুব সহজে আপনার নিজের ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে ব্যাবহার করতে পারেন।

তো আজকে এইটুকুই, আমরা পুরাদমে শুরু করব পরের পর্ব থেকে। ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন।

অফটপিক– আপনার যদি সত্যিকার অর্থেই সাইট বানানোর ইচ্ছা থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই পেইড ডোমেইন এবং হোস্টিং ইউজ করবেন, কোন ভাবেই এই সব ফ্রী ইউজ করতে যাবেন না; ফ্রী ইউজ করবেন শুধু মাত্র প্র্যাকটিসের জন্য

আপনাদের সাহায্য লাগলে কমেন্ট করবেন।

পরর্বতী পাট করবো কি। আপনাদের ভালো লাগলে ৫ দিনে শেষ করবো। শুধু উৎসাহ দিন।

[http://free.facebook.com/mdgias.uddin.98031] সমস্যা জানান আরো ফেসবুকে[/url]

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

Leave a Comment