[কম্পিউটার প্রোগ্রামিং: অধ্যায় ১] প্রথম প্রোগ্রাম

আজকের টিপসে আপনাদের স্বাগতম।
আজ আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো প্রোগ্রামিং এর সমস্যা সমাধানের উপায়।তবে উল্লেখ্য যে লেখাগুলো আমার না, লেখাগুলো তামিম শাহরিয়ার সুবিনের “কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ১ম খন্ড” থেকে সংগৃহীত।আমি বইটির প্রথম অধ্যায় থেকে শেষ পর্যন্ত শেয়ার করবো।যদি আপনাদের উপকারে লাগে তাহলে অবশ্যই জানাবেন আর না লাগলে বলবেন আমি পোস্ট ডিলিট করে এই সম্পর্কে পোস্ট করবো না।

তবে হ্যাঁ যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিবে তাদের জন্যে পোস্ট গুলো কাজে লাগবে।কারন সবাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রোগ্রামিং অধ্যায়টাকে বেশী ভয় করে। চলুন এবার শুরু করি।

[প্রোগ্রামিং বইঃ অধ্যায় এক] প্রথম প্রোগ্রাম।

প্রোগ্রামিংয়ের জগতে স্বাগতম!

আমরা এখন একটি প্রোগ্রাম লিখে ফেলব, যেটি তোমার কম্পিউটারের স্ক্রিনে Hello World দেখাবে বা প্রিন্ট করবে। এটি হচ্ছে প্রোগ্রামিংয়ের একটি ঐতিহ্য। পৃথিবীর অধিকাংশ প্রোগ্রামারই জীবনের প্রথম প্রোগ্রাম হিসেবে এটি লেখে। আমি এই বইয়ের প্রোগ্রামগুলো চালানোর জন্য Codeblocks ব্যবহার করব। তবে তোমরা অন্য কিছু ব্যবহার করলেও কোনো সমস্যা নেই, সবগুলোতে কাজের ধারা মোটামুটি একই রকম। কম্পিউটারে কোডব্লকস ইনস্টল করে ফেলো।

ইনস্টল হয়ে গেল। এখন উইন্ডোজের Start মেনুতে Programs-এ গিয়ে Codeblocks চালু করো। উবুন্টুতে এটি থাকবে Applications > Programming-এর ভেতর।

এখন তোমরা প্রোগ্রামগুলো রাখার জন্য হার্ডডিস্কের ভেতর একটি ফোল্ডার তৈরি করে নাও। ওই ফোল্ডারে ফাইলগুলো সেভ (Save)করবে। ফাইলের যেকোনো একটি নাম দাও। আর Save as type হবে C/C++ files।
এখন আমরা আমাদের কোড বা প্রোগ্রাম লিখব। নিচের কোডটি টাইপ করে ফেলো এবং ফাইলটি সেভ করো।

তোমরা হয়তো চিন্তা করছ, আমি এই হিজিবিজি কী লিখলাম? আস্তে ধীরে সব ব্যাখ্যা করব, চিন্তা নেই! আপাতত আমার কথামতো কাজ করে যাও। এবার Build মেনুতে গিয়ে Compile Current File-এ ক্লিক করো।

তুমি যদি প্রোগ্রামটি ঠিকভাবে টাইপ করে থাকো তবে কম্পাইলার তোমাকে বলবে যে 0 errors, 0 warnings, মানে – প্রোগ্রামে syntax ঠিক আছে।
এখন আবার Build মেনুতে গিয়ে Run-এ ক্লিক করো। তাহলে তোমার প্রোগ্রাম চালু হয়ে যাবে।
এখানে দেখো, তোমার প্রোগ্রামটি স্ক্রিনে Hello World প্রিন্ট করেছে। পরের লাইনে বলা আছে Process returned 0 (0x0) (এটির অর্থ নিয়ে আমাদের এখন মাথা না ঘামালেও চলবে) আর execution time : 0.031 s মানে প্রোগ্রামটি চলতে 0.031 সেকেন্ড সময় লেগেছে। তারপরের লাইন হচ্ছে, Press any key to continue. কি-বোর্ডে Any key খুঁজে না পেলে অন্য যেকোনো কি চাপলেই চলবে।
তুমি যদি প্রোগ্রামটি ঠিকঠাকভাবে রান করাতে পারো এবং Hello World লেখাটা দেখে থাকো তাহলে তোমাকে অভিনন্দন। তুমি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করে ফেলেছ।

আর ঠিকঠাকভাবে রান করাতে না পারলে আবার শুরু থেকে চেষ্টা করো। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নাও। কারণ এই প্রোগ্রাম না চালাতে পারলে বইয়ের পরের অংশ পড়ে তেমন একটি লাভ হবে না।

এবারে দেখা যাক আমি কী লিখেছি কোডে।
প্রথম লাইন ছিল: #include , এটি কেন লিখেছি একটু পরে বলছি।
দ্বিতীয় লাইন ফাঁকা। দেখতে সুন্দর লাগে তাই।
তৃতীয় লাইন: int main()। এটিকে বলে মেইন ফাংশন। সি প্রোগ্রামগুলো মেইন ফাংশন থেকে কাজ করা শুরু করে, তাই সব প্রোগ্রামে একটি (এবং কেবল একটি) মেইন ফাংশন থাকতে হয়। মেইন ফাংশনের শুরুতে দ্বিতীয় বন্ধনী দিয়ে শুরু করতে হয় আর শেষও করতে হয় একটি দ্বিতীয় বন্ধনী দিয়ে। শেষ করার আগে আমি return 0; লিখেছি, সেটি কেন এখন ব্যাখ্যা না করলেই ভালো হয়, ফাংশন নিয়ে যখন আলাপ করব তখন বলব। তাই আপাতত তোমরা যেকোনো প্রোগ্রামে নিচের অংশটুকু লিখে ফেলবে:

int main()
{
এখানে কোড থাকবে।
return 0;
}

প্রোগ্রামের পরের লাইন খেয়াল করো: printf(“Hello World”); এটি একটি স্টেটমেন্ট। এখানে printf() হচ্ছে একটি ফাংশন যার কাজ হচ্ছে স্ক্রিনে কিছু প্রিন্ট করা। ডবল কোটেশন চিহ্নের ভেতরে যা লিখবে তা-ই স্ক্রিনে সে প্রিন্ট করবে। এই ফাংশনটি স্ক্রিনে প্রিন্ট করে কীভাবে সেটি আসলে বলা আছে stdio.h নামে একটি ফাইলে। এই ফাইলগুলোকে বলে হেডার (header) ফাইল (.h হচ্ছে হেডার ফাইলের এক্সটেনশন)। stdio.h ফাইলে স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট আর আউটপুট-সংক্রান্ত যাবতীয় ফাংশন লেখা আছে, আমরা কেবল সেগুলো ব্যবহার করব, ফাংশনগুলো কীভাবে কাজ করে সেটি এখন আমাদের জানার দরকার নেই। আর যেহেতু printf() ফাংশন ব্যবহার করেছি, তাই প্রোগ্রামের শুরুতে #include লিখতে হয়েছে। এই রকম আরও অনেক প্রয়োজনীয় হেডার ফাইল আছে, যার কিছু আমরা পরবর্তী সময়ে কাজের প্রয়োজনে দেখব।

এখন একটি ব্যাপার খেয়াল করো। printf(“Hello World”);-এর শেষে একটি সেমিকোলন রয়েছে। সি ল্যাঙ্গুয়েজে প্রতিটি স্টেটমেন্টের পরেই একটি সেমিকোলন থাকে। একটি স্টেটমেন্টের কাজ শেষ হলে পরের স্টেটমেন্টের কাজ শুরু হয়। return 0;ও একটি স্টেটমেন্ট, তাই এটিও সেমিকোলন দিয়ে শেষ করতে হয়েছে। শুরুর দিকে অনেকেই সেমিকোলন দিতে ভুলে যায়, তখন কম্পাইল এরর (compile error) হয়। তোমরা একটি সেমিকোলন মুছে দিয়ে কম্পাইল করার চেষ্টা করে দেখতে পারো।

এবারে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখি। তোমরা কোডটি খেয়াল করলে দেখবে যে আমি #include , int main(), { ও } যেই লাইনে আছে সেটি এডিটরের একেবারে বাঁ দিক থেকে শুরু করেছি। আর printf এবং return 0-এর আগে চারটি স্পেস (ফাঁকা জায়গা) দিয়ে নিয়েছি। এটিকে বলে ইনডেন্টেশন (Indentation)। এরকম না করলেও প্রোগ্রামটি চলত এবং তাই অনেকেই ইন্ডেন্টেশনের ব্যাপারটি গুরুত্ব দেয় না এবং ঠিকমতো ইনডেন্টেশন করে না। যেকোনো ভালো অভ্যাসের মতো ইন্ডেন্টেশনের অভ্যাস তৈরি করাটা একটু কঠিন, তবে বিষয়টা কিন্তু দাঁত মাজার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ইনডেন্টেশন করার অভ্যাস ঠিকমতো তৈরি না হলে প্রোগ্রামারদের সহকর্মী বা বসের বকা শুনতে হয়, অনেক জায়গায় তো ইন্টারভিউতেই বাদ পড়ে যেতে হয়। আশা করছি তোমরা ব্যাপারটি বেশ গুরুত্ব সহকারে নেবে। আমি বইয়ের সমস্ত উদাহরণেই যথাযথভাবে ইনডেন্টেশন করার চেষ্টা করব তবে ছাপার সময় একটু এদিক-ওদিক হতে পারে, সেটি তোমরা বুঝে নেবে। ইন্ডেন্টশনের জন্য সাধারণত চারটি স্পেস দেওয়াটাই এখন স্ট্যান্ডার্ড। তোমরা এডিটরে অপশন সেট করতে পারো যাতে ট্যাব (Tab) চাপলে সেটি চারটি স্পেসের সমান হয়। Codeblocks-এ Settings মেনুতে Editor-এ ক্লিক করে TAB Options-এ TAB indents চেক করো এবং TAB size in spaces 4 দাও।
এবারে তোমাদের জন্য একটি কাজ। একটি প্রোগ্রাম লেখো যেটি স্ক্রিনে প্রিন্ট করবে: I love my country, Bangladesh।

প্রোগ্রামটি টাইপ করার পরে অবশ্যই কম্পাইল ও রান করবে। কম্পাইল করার আগে সেভ করতে ভুলবে না।

বই- কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ১ম খন্ড
লেখক- তামিম শাহরিয়ার সুবিন

না বুঝলে: ফেসবুকে আমি

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

Leave a Comment