বাসর রাতে স্তীর গোপন অংগ কাটলেন তার সামি

লে স্বামী
গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চিড়ে দেওয়ার ক্ষত এখনও স্পষ্ট। সেই ক্ষতচিহ্নের রক্ত শুকিয়ে লেগে আছে কাপড়ে। এছাড়া খুলে রাখা কাপড়েও আছে কোপানের ছাপ। নির্যাতনের আগে খাওয়ানো হয় ঘুমের বড়ি। চারটি সেলাই করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময় লাগে আট দিন। রক্তশূন্যতা পূরণ করতেও লাগে কয়েক ব্যাগ রক্ত।
চিকিৎসকদের অক্ষান্ত পরিশ্রমে ওই নববধূ কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ভবিষ্যতে মা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ। রোমহর্ষক এই নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায়।
জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল ফুলপুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেকিমের ছেলে সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় হালুয়াঘাট উপজেলার আমতৈল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে ছালমা আক্তারের।
বিয়ের পর বাসর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর গোপনাঙ্গের কয়েক স্থান চিড়ে ফেলে সোহাগ। নববধূর চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসার আগেই স্বামী সোহাগ পালিয়ে যায়। পরে ওই বধূকে মুমূর্ষু অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ওই গৃহবধূর গোপনাঙ্গে চারটি সেলাই দেয়া হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে কয়েক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। ভবিষ্যতে তার মা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকরা জানান।
এদিকে ঘটনার পর মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে হালুয়াঘাট থানায় অভিযোগ করতে গেলেও সেখানে মামলা নেয়া হয়নি। যোগাযোগ করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ঘটনাটি ফুলপুর থানায়। মামলা করতে হলে সেখানেই করতে হবে। বিষয়টি ওই নববধূর পরিবারকেও জানানো হয়েছে।
তবে ঝামেলা এড়াতে ফুলপুর থানায় না গিয়ে গত রবিবার ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেছেন নববধূ ছালমা আক্তার।
তবে কী কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছে এ ব্যাপারে কারও কাছ থেকে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বউ পছন্দ না হওয়ায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল গৃহবধূর অবস্থা জানতে তার বাবার বাড়ি হালুয়াঘাটের আমতৈল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির সবাই শোকে কাতর। লোমহর্ষক ওই ঘটনার কথা জানতে চাইলেই ২৩ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ আঁতকে উঠছেন। আবার মাঝে মাঝে মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠেছেন।
তার কান্না দেখে পরিবারের অন্য সদস্যরাও চোখে পানি ধরে রাখতে পারছেন না। প্রতিবেশিরাও এসে মেয়েটিকে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। অবিলম্বে পাষণ্ড স্বামীকে গ্রেপ্তার করে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয় এই দাবি করেছেন নববধূর পরিবারের সদস্যরা।

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

Leave a Comment