রবিকে শোকজ, একীভূতকরণ কেনো বাতিল নয় ?

নির্দেশনা না মানায় রবিকে শোকজ করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেশন অ্যাক্ট-২০০১ এর অধীনে বেশ কড়া ভাষাতেই এই শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনা না মানার কারণে কেনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা ব্যাখ্যা করতে ৩০ দিনের সময় দেয়া হয়েছে অপারেটরটিকে। অথবা পাওনা অবশিষ্ট অর্থ জমা বলা হয়েছে ওই নোটিশে।

শোকজে ররি-এয়ারটেল একীভূতকরণ সম্পর্কিত বিটিআরসি-রবির পাঁচটি চিঠির রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি এবং এয়ারটেলের একীভূতকরণে অনুমোদনের চিঠিও রয়েছে।

আর এই শোকজ নোটিশে এই চিঠি কেনো বাতিল করা হবে না তাও জানাতে বলা হয়েছে। যার অর্থ দাঁড়ায় একীভূতকরণ কেনো বাতিল করা হবে না তা জানাতে হবে অপারেটরটিকে।

১৫ মার্চ বিটিআরসির ইস্যু করা শোকজ নোটিশ রবি রিসিভ করেছে ১৬ মার্চ। আর নোটিশ রিসিভের দিন হতেই ৩০ দিন গোনা হবে।

শোকজ নোটিশে রবির শর্ত প্রতিপালন না করা, নির্দেশনা না মানার বিষয়গুলো রেগুলেশন অ্যাক্টের ধারা উল্লেখ করে বিশদভাবে তুলে দেয়া হয়েছে।

এর আগে আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়া সংক্রান্ত বিটিআরসির নির্দেশনা না মানায় রবি ও এয়ারটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একই চিঠি পৃথকভাবে দেয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

এদিকে এয়ারটেলের প্যাকেজ অনুমোদন করছে না বিটিআরসি। রবির সঙ্গে একীভূত হওয়া কোম্পানিটির জন্য একটি প্যাকেজ অনুমোদনের আবেদন আটকে দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ। কমিশনের আইন বিভাগ এ অনুমোদন না দিতে পরামর্শ দেয়। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগও অপারেটরটির  কিছু যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য অনাপত্তি (এনওসি) অনুমোদন করেনি।

বিটিআরসি বলছে, অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স না হওয়া পর্যন্ত এয়ারটেলের কিছুর অনুমোদন হবে না।

এদিকে শত কোটি টাকার বেশি বকেয়া পরিশোধ ও স্পেকট্রামসহ কয়েকটি শর্ত পূরণে গরিমসির মাধ্যমে একীভূতকরণ চূড়ান্ত করার বিষয়টি এখনও ঝুলিয়ে রেখেছে শীর্ষস্থানীয় অপারেটর রবি। যদিও মোবাইল ফোন সেবাসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলছে একক কোম্পানি হিসেবে। এটিকে নিয়মে ব্যতয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একীভূতকরণের পর গ্রাহক সংখ্যার বিচারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটরে পরিণত হওয়া রবিকে গত মাসে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) শর্ত পূরণের সব তথ্য জানাতে ১০ দিন সময় বেধে দেয় ।

পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি ছয়টি শর্তের বিস্তারিত উল্লেখ করে এ চিঠিতে শর্ত প্রতিপালনের তথ্য জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সব শর্ত পূরণের বিস্তারিত তথ্য জানায়নি অপারেটরটি। কৌশলে চিঠির জবাব দিয়েছে তারা।

এমনকি রবি একীভূতকরণের পর কমিশনের অন্যতম দুই শর্ত স্পেকট্রাম চার্জ ও একীভূতকরণ ফি হিসাবে বকেয়া ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ এবং এয়ারটেলের ৫ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম ফেরত দেওয়ার কোনোটিই এখন পর্যন্ত পূরণ করেনি ।

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

Leave a Comment