স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন

স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন

১. নাম নয় বরং সুন্দর সিফাতে ডাকবেন যেমনঃ ( টুকটুকি,  রূপসী, রোদ্রময়ী,কামিনী, সুহাসীনি, সুভাগিনী,  লজ্জাবতী, কলিজা, পাগলী, ইত্যাদি।হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে- আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)

 

২. কোনো ভুল করলে আদর করে কাছে ডেকে নিয়ে চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার সহিত বুঝিয়ে দিবেন। নারী ভালোবাসার পাগল। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে-

 

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيْمُهُ كَسَرْتَهُ وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ-

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নারীদেরকে উত্তম নাসীহাত প্রদান করবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে উপরের হাড়টি বেশী বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে যাবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাঁকাই থাকবে। কাজেই নারীদেরকে নাসীহাত করতে থাক। [সহীহ্ বুখারী-৩৩৩১]

স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন
স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন

স্ত্রীর যেই ভুলগুলো শরীয়ত বিরোধী না হয় সেগুলো মাঝে মাঝে এরিয়ে যাওয়া,

 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏‏ لاَ يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ‏ أَوْ قَالَ ‏‏ غَيْرَهُ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মু’মিন পুরুষ কোন মু’মিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃনা পোষণ করবে না; (কেননা) তার কোন চরিত্র অভ্যাসকে অপছন্দ করলে তার অন্য কোন (চরিত্র-অভ্যাস) টি সে পছন্দ করবে। কিংবা (এধরনের) অন্য কিছু বলেছেন।

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৫৪০

 

৩. রান্নার সময় পিছন থেকে জরিয়ে ধরে মুসকি হাঁসি দিয়ে তার কাজে সহযোগিতা করবেন।

 

আপনি বাইরের কাজ করে এসে দেখলেন আপনার স্ত্রীর রান্না বা অন্যান্য কাজে বিলম্ব হচ্ছে, এতে আপনি ভ্রূকুটি না করে তার কাজে সহযোগিতা করুন, দেখবেন আপনাকে সে কত ভালোবাসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন।

 

হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে –

 

عن عائشة أم المؤمنين

سُئِلَتْ: ما كان رسولُ اللهِ ﷺ يَعمَلُ في بَيتِه؟

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে কি করেন?

 

قالَتْ: كان بَشَرًا مِن البَشَرِ؛ يَفْلي ثَوبَه، ويَحلُبُ شاتَه، ويَخدُمُ نَفْسَه.

شعيب الأرنؤوط (ت ١٤٣٨)، تخريج المسند ٢٦١٩٤

আম্মাজান বলেন, তিনি একজন মানুষ ছিলেন, নিজের কাপড় শেলাই করতেন, দুধ দোহন করতেন, নিজের কাজ নিজে করতেন।

 

অন্য হাদীসে বর্ণিত আছে-

 

[عن عائشة أم المؤمنين:]

أنَّها سُئِلَتْ: ما كان النبيُّ ﷺ يَعمَلُ في بَيتِه، قالَتْ: كان يَخيطُ ثَوبَه، ويَخصِفُ نَعلَه، قالَتْ: وكان يَعملُ ما يَعمَلُ الرِّجالُ في بُيوتِهم.

شعيب الأرنؤوط (ت ١٤٣٨)، تخريج المسند ٢٦٢٣٩  •

 

তিনি নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন,অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো তিনিও সব কাজ করতেন।

 

আরেক বর্ণনায় আছে-

عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ قَالَتْ كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ ـ تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ ـ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ‏.‏

 

আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারবর্গের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় হলে সালাতের জন্য চলে যেতেন।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৭৬

كِتَابُ الْأَذَانِ بَابُ مَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَهْلِهِ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَخَرَجَ

স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন

৪. স্ত্রীর মনের কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং তার সাথে হাঁসি -কৌতুক করবেন। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে –

 

عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، وَجَابِرَ بْنَ عُمَيْرٍ الأَنْصَارِيَّيْنِ يَرْمِيَانِ ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : ” كُلُّ شَيْءٍ لَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ اللَّهِ ، فَهُوَ لَهُوٌ وَلَعِبٌ ، إِلا أَرْبَعَ : مُلاعَبَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ ، وَتَأْدِيبُ الرَّجُلِ فَرَسَهُ ، وَمَشْيُهُ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ ، وَتَعْلِيمُ الرَّجُلِ السَّبَّاحَةَ

 

অর্থাৎ দুইজন আনসারী একজন অপরজনকে বলছে, আমি শুনেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর জিকির ব্যতীত পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব অনর্থক অর্থহীন বেকার। কিন্তু চারটি বস্তু ব্যতীত; তন্মধ্যে একটি হলো স্বামী তার স্ত্রী সঙ্গে হাসিরসিকতা করবে। (সুনানে কুবরা লিননাসায়ী, হাদিস নং ৮৬১৬)

 

* عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَىَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ ‏ “‏ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ ‏‏ ‏.‏

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সাথে আবারো দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন বিজয়ী হলেন। তিনি বলেনঃ এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৫৭৮)

 

 

৫. স্ত্রীকে শাড়ী পরিয়ে দিবেন,চুলে বেনি করে দিবেন নিজ হাতে, মাথায় বকুল ফুল গুঁজে দিবেন, এবং জোসনা রাতে তাকে নিয়ে ছাঁদের বেলকনিতে অথবা ছাঁদের নির্জন স্থানে দাড়িয়ে চাঁদ দেখবেন ( অবশ্যই তখন তাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে কানের কাছে গিয়ে বলবেন ঐ চাঁদ থেকেও তুমি অসম্ভব সুন্দরী 😌), সাথে এককাপ চা রাখবেন। তিনি চায়ের কাপে যেখানে ঠোঁট লাগিয়ে চুমুক দিবে আপনিও সেখানে ঠোঁট লাগিয়ে চুমুক দিয়ে তার ঠোঁটের উষ্ণতা ভোগ করবেন,  দেখবেন কতটা শান্তি অনুভব হয় মনে 😌।

 

৬.স্ত্রীর সাথে একই পাত্রে খাবার খাবেন।

মহানবী (সা.) স্ত্রীর সঙ্গে একই পাত্রে খাবার গ্রহণ করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, ‘আমি হাড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর আমি যেখানে মুখ রাখতাম আল্লাহর রাসুল (সা.) সেখানে তার মুখ রাখতেন। অথচ তখন আমি ঋতুমতী ছিলাম। আমি পাত্র থেকে পানি পান করতাম। তারপর তিনি সে স্থানে মুখ রাখতেন, যেখানে আমি মুখ রাখতাম। অথচ আমি তখন ঋতুমতী ছিলাম। (নাসায়ি শরিফ, হাদিস : ৭০)

 

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে স্বামী তার স্ত্রীকে এক লোকমা ভাত খাইয়ে দিবে, আল্লাহ ওই স্বামীর ছগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন এবং যে স্ত্রী তার স্বামীকে এক লোকমা ভাত খাইয়ে দিবে আল্লাহ ওই স্ত্রীর ছগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন এবং প্রতি লোকমার বিনিময়ে ১০০০ নেকি উভয়ের আমলনামায় দান করবেন।’ (মুসলিম শরীফ)

 

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ঘরে স্বামী ও স্ত্রী একই প্লেটে খাবার খাবে যতক্ষণ খাবার খেতে থাকবে ততক্ষণ তাদের আমলনামায় সওয়াব লিখা হয়।’ (তিরমিজি)

 

৭. প্রতিদিন নামাজে যাওয়ার আগে তার কপালে আপনার ভালোবাসার পরশ একে দিবেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে স্বামী তার স্ত্রীকে একবার চুমু দিবে এবং যে স্ত্রী তার স্বামীকে একবার চুমু দিবে, প্রতিটা চুমুর বিনিময়ে ১০০ নেকি তাদের আমলনামায় লিখা হয়।’ (মুসনাদে আহমদ)

 

তাহলে দেখবেন দুনিয়া থেকেই জান্নাতের নমুনা স্বরূপ সুন্দর একটা সংসার হবে। ইনশাআল্লাহ, 🥰

Tag: স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন, স্ত্রীকে কিভাবে ভালোবাসতে হয়, স্বামী স্ত্রীকে কিভাবে ভালবাসবে, স্ত্রীকে ভালোবাসুন, স্ত্রীকে ভালোবাসার উপায়, স্ত্রীকে কিভাবে খুশি করা যায়, আমার স্ত্রী আমাকে ভালোবাসে না, স্ত্রী কে ভালবাসুন , কিভাবে স্ত্রীকে খুশি করা যায়, ভালো স্ত্রী, স্ত্রীকে ভালোবাসা, কিভাবে স্ত্রীর মন জয় করা যায় , বউকে কিভাবে ভালোবাসতে হয়, যে স্ত্রী, যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন, কিভাবে স্ত্রীকে আদর করব.

Share This Post

3 thoughts on “স্ত্রী কে যেভাবে ভালবাসবেন”

Leave a Comment