কৃত্রিম কিডনি পাওয়া যাবে এবার সাধ্যের মধ্যেই!

কিডনি সমস্যার সুরাহা খুঁজতে এবার ডায়ালিসিস বা প্রতিস্থাথাপনের দিন শেষ হলো। বিকল অঙ্গের বদলে ব্যবহার হতে চলেছে কৃত্রিম কিডনি, যার খরচও তুলনায় কম।

কিডনি বিকল হলে রক্ত শোধনে ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমে রক্ত-দূষণ সৃষ্টি করে। বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে রক্ত শোধন করা হয়ে থাকে, যার জন্য রোগীকে একাধিক দিন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। শুধু তাই নয়, ডায়ালিসিস চলাকালীন বা পরে অধিকাংশ রোগী ডায়াবিটিস ও হাইপারটেনশনে ভোগেন, যা সমস্যা আরও জটিল করে তোলে। বিকল কিডনির বদলে রোগীর দেহে সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপনও হয়ে থাকে, তবে তা সহজলভ্য নয় এবং খরচ সাপেক্ষ। এই সমস্ত সমস্যার সমাধানে আগামী দশকের মধ্যেই বাজারে আসছে কৃত্রিম কিডনি, যা স্বাভাবিক কিডনির সব কাজ করতে সক্ষম।

গত বুধবার ট্যাঙ্কার বার্ষিক চ্যারিটি অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস নাইটে কৃত্রিম কিডনির কথা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং যন্ত্রের সহ-আবিষ্কারক ডক্টর শুভ রায়। তিনি জানিয়েছেন, হাতের মুঠোর আকারের কৃত্রিম কিডনি চলতি দশকের শেষ অথবা নয়া দশকের গোড়ায় বাজারে পাওয়া যাবে। আমেরিকায় তৈরি এই যন্ত্র আপাতত সে দেশের কয়েক হাজার রোগীর দেহে পরীক্ষামূলক বসানো হয়েছে। শারীরিক সুরক্ষা এবং সর্বাঙ্গীন সাফল্যের পরীক্ষায় উতরোলে তা বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেবে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক এফডিএ।

ডক্টর রায় জানিয়েছেন, যন্ত্রটি সহজেই পেটের ভিতরে স্থাপন করা যায় এবং স্বাভাবিক কিডনির মতো রক্ত শোধন করা ছাড়াও তা হরমোন উত্‍পাদন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। সাধারণ হিমোডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার মতো রক্ত থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বাদ দেওয়া ছাড়াও জীবন্ত কিডনি কোষ দিয়ে তৈরি বায়ো রিঅ্যাক্টর এবং সূক্ষ্ম পর্দার মাধ্যমে রক্ত শোধনের কাজ নিখুঁত ভাবে করতে পারে কৃত্রিম কিডনি।

ডক্টর রায়ের দাবি, ডায়ালিসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের চেয়ে অনেক কম খরচে বসানো যাবে কৃত্রিম কিডনি।

Sorce Zoombangla

Share This Post

Leave a Comment