বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর চল্লিশ হাদিস সবাই দেখবেন।[পার্ট ২]

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর চল্লিশ হাদিস

♥আসসালামু আলাইকুম♥

♥সবাই কেমন আছেন?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আর আপনাদের দোয়ায় আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

👉পোস্টের বিষয়ঃ

👉এখন আপনাদের সামনে একটি ইসলামিক পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।আগের পোস্ট মহানবী (সাঃ)এর ৪০ টি হাদিস এর মধ্যে ২০ টি নিয়ে আলোচনা করেছি।এখন আলোচনা করব শেষ ২০ টি।

👉মহানবী (সাঃ)এর চল্লিশ টি হাদিস এর শেষ ২০ টিঃ

👉(২১) আল্লাহর নবী (স.) বলেছেন : লজ্জা দুই প্রকারের, বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক লজ্জা এবং বোকামীপূর্ণ লজ্জা। বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক লজ্জা জ্ঞান হতে উত্সারিত এবং বোকামীপূর্ণ লজ্জা অজ্ঞতা ও মূর্খতা হতে উত্সারিত হয়। (উসুলে কাফী, খণ্ড ২, পৃ. ১০৪)

👉(২২) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন : ‘যখন তোমার লজ্জা শেষ হয়ে যায় তখন তুমি সব কিছু করতে পারো’ [লজ্জাহীন ব্যক্তিরাই বিভিন্ন গুনাহ সম্পাদন ও আইন লঙ্ঘনে কোন ভয় পায় না]। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৬৮, পৃ. ৩৩৬)

👉(২৩) নবী করিম (স.) বলেছেন : ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে নিজের নাফসের চাহিদার উপর বিজয়ী হয়’। (মান লা ইয়াহযারহুল ফাকীহ, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৯৫)

👉(২৪) আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন : ‘লোকদের উপর কর্তৃত্ব অর্জন ও বিজয়ী হওয়া সাহসীকতা ও বীরত্ব নয়, বরং নিজের লাগামহীন নাফসের উপর কর্তৃত্ব লাভ করাই হচ্ছে প্রকৃত সাহসীকতা ও বিজয়’। (মাজমুয়াতু ওয়ারাম, খণ্ড ২, পৃ. ১১)

👉(২৫) হযরত মুস্তাফা (স.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষণিকের জন্য হেয় ও প্রতিপন্ন হতে প্রস্তুত হয় না, সে সারা জীবন অজ্ঞতার কারণে হেয় ও প্রতিপন্ন হয়’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৭)

👉(২৬) নবি করিম (স.) বলেছেন : যে মু’মিন মানুষের সাথে মেশে এবং তাদের ঝামেলা সহ্য করে, মহান আল্লাহর দরবারের তাদের পুরস্কার ঐ মু’মিন অপেক্ষা বৃহৎ যে মানুষের সাথে মেশে না এবং তাদের ঝামেলাও সহ্য করে না’। (মেশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ. ১৯৩)

👉(২৭) হযরত মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (স.) বলেছেন : ‘মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন : ১-যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, ২-যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে, ৩-আমানতের খেয়ানত করে’। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, পৃ. ৮৯)

👉(২৮) রাসূলে আকরাম (স.) বলেছেন : ‘হে আলী! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ সমাধানের উদ্দেশ্যে বলা মিথ্যাকে পছন্দ করেন এবং ফাসাদ সৃষ্টির কারণ হয় এমন সত্য বলাকে অপছন্দ করেন’। (মাকারেমুল আখলাক, পৃ. ৪৩৩)

👉(২৯) আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন : ‘যে নিজের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয় সে ব্যক্তি অভিশপ্ত’।

👉(৩০) হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি একটি গুনাহ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য মহান আল্লাহর নিকটে ৭০টি কবুল হওয়া হজ্বের সওয়াব রয়েছে’। (মেশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ. ৩১৬)

👉(৩১) নবী করিম (স.) বলেছেন : মিথ্যা হতে দূরে থাকো, কেননা মিথ্যা চেহারাকে কালো করে দেয়’। (মুস্তাদরাক, খণ্ড ২, পৃ. ১০০)

👉(৩২) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন : ‘আল্লাহর নিকট বিবাহের মত প্রিয় কোন বন্ধন ইসলাম ধর্মে নেই’। (মুস্তাদরাক, খণ্ড ২, পৃ. ৫৩১)

👉(৩৩) হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (স.) বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি আমার স্বত্তাকে ভালবাসে, তার উচিত আমার সুন্নতের অনুসরণ করা, আমার পথে পথচলা। আর আমার সুন্নতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিবাহ করা’। (মাকারেমুল আখলাক, পৃ. ১৯৬)

👉(৩৪) আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন : কোন নারীকে তার সৌন্দর্য্যের কারণে বিবাহ করো না, কেননা তার সৌন্দর্য তার নৈতিক অবনতির কারণ হতে পারে। একইভাবে তার সম্পদের দিকে দৃষ্টি রেখে তাকে বিবাহ করো না, কেননা তার সম্পদ তার ঔদ্ধ্যত্য ও অবাধ্যতার কারণ হতে পারে। বরং কোন নারীকে তার ঈমানের কারণে বিবাহ করো’। (মাহাজ্জাতুল বাইদ্বা, খণ্ড ৩, পৃ. ৮৩)

👉(৩৫) রাসুলে আকরাম (স.) বলেছেন : ‘গুনাহ হতে তওবা করা সর্বদা পছন্দনীয় কাজ, কিন্তু যুবক বয়সে এ কাজটি অধিক পছন্দনীয়’। (মাজমুয়াতুল ওয়ারাম, খণ্ড ২, পৃ. ১১৮)

👉(৩৬) নবী করিম (স.) বলেছেন : ‘জ্ঞানী ব্যক্তিরা দুই প্রকারের : যে আলেম নিজের জ্ঞানের উপর আমল করে তার জ্ঞান তার জন্য পরিত্রাণদাতা হয়। আর যে আলেম নিজের জ্ঞানকে ত্যাগ করে সে ধ্বংস হয়ে যায়’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৬)

👉(৩৭) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন : হে আবুযার! ঐ ব্যক্তি কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে নিজের জ্ঞান হতে উপকৃত হয়না’। (লি-আলিল আখবার, পৃ. ১৬১)

👉(৩৮) হযরত রাসুল (স.) দেখলেন মসজিদে দু’টি দল বসে আছে; একট দল ইসলামি জ্ঞানচর্চায় ব্যস্ত এবং অপরটি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ও মুনাজাতে ব্যস্ত। আল্লাহর নবী (স.) বললেন : উভয় দলই আমার পছন্দের, কিন্তু জ্ঞানচর্চাকারী দলটি প্রার্থনায়রত দলটি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর আমি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষকে শিক্ষা দানের লক্ষ্যে প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর মহানবী (স.) জ্ঞানচর্চাকারী দলটিতে যেয়ে বসলেন। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১, পৃ. ২০৬)

👉(৩৯) মহানবী (স.) বলেছেন : যে ব্যক্তি নামাযকে বিলম্বে পড়ে, (কেয়ামতের দিন) আমার শাফায়াত তার পর্যন্ত পৌঁছাবে না’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৮৩, পৃ. ২০)

👉(৪০) আল্লাহর রাসূল (স.) বলেছেন : ‘মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল হচ্ছে তালাক’। (সুনানে আবি দাউদ, কিতাবুত তালাক, পৃ. ১৮৬৩)

👉আজ এখানেই শেষ করছি,সবাই ভালো থাকুন সুস্হ থাকুন আর নিত্য নতুন নতুন ট্রিক্স ও টিপস এবং ইসলামিক পোস্ট পেতে ট্রিকবিডির এর সাথেই থাকুন।
আসমান বই pdf download

♥আল্লাহ হাফেজ

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

8 thoughts on “বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর চল্লিশ হাদিস সবাই দেখবেন।[পার্ট ২]”

  1. মাশাআল্লাহ, প্রয়োজনীয় হাদীস কালেকশন- যা আমাদের সকল মুসলমানদের জন্য জানা উচিত।

    Reply

Leave a Comment