কিছু অপরিহার্য নিয়ম মেনে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকুন

কিছু অপরিহার্য নিয়ম মেনে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকুন

আমরা আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনধারায় সামান্য বৈচিত্র্য আনতে বিশেষ কোনো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনকে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে থাকি। যেমন-ভ্যালেন্টাইন ডে, মা দিবস, বাবা দিবস প্রভৃতি। প্রযুক্তিবিশ্বেওএর ব্যতিক্রম দেখা যায় না। যেমন- ৯ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে পালিত হয় সেফার ইন্টারনেট ডে (Safer Internet Day) হিসেবে।

০১. নিয়মিতভাবে ঘনঘন আপডেট করা

আপনার অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার অথবা অন্য কোনো সফটওয়্যারে যদি ভলনিয়ারিবিলিটি থাকে,তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার সিস্টেমটি দুষ্টুচক্রের দখলে চলে যেতে পারে যখন-তখন। তবে এতে উদ্বিগ্ন থাকার কোনো কারণ নেই। কেননা, সফটওয়্যার প্রস্ত্ততকারকেরা সফটওয়্যারের ওইসব হোল খুব শিগগিরই মেরামত করে এবং এর আপডেট উন্মুক্ত করে। তবে এ আপডেট সত্যিকার অর্থে কোনো কাজেই লাগবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তা আপনার সিস্টেমে ইনস্টল করছেন।

০২. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যাকে আপডেট করে সবশেষ ভার্সন রাখা

এখনকার অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলো আগের ইনস্টল করা সফটওয়্যারগুলোর মতো তেমন নিরাপদ নয়। ফলেঅ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করা মানেই যে আপনি ব্যবহৃত ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকবেন এমন কোনো কথা নেই।‘জিরো ডে’ থ্রেডের ক্রমবৃদ্ধির আগে অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানিগুলো তাদের সফটওয়্যারকে আপডেট করে আসছে নিয়মিতভাবে।এসব সফটওয়্যার ৯০ শতাংশের বেশি থ্রেডকে মোকাবেলা করতে পারে।

০৩. স্ক্যামে আকৃষ্ট না হওয়া

ম্যালওয়্যার অথার এবং সাইবার ক্রোকসের চেয়ে বেশি বড় কিছু হতে পারে কী? আপনার লগইনে হামলাকারীদের পক্ষে অ্যাক্সেস করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনাকে বোকা বানানো, যাতে আপনি নিজেকে তাদের কাছে সঁপে দেন। এটি সাধারণত অর্জিত হয়ে থাকে ‘ফিশিং’ ই-মেইলের মাধ্যমে, যা দেখে মনে হবে ই-মেইলটি এসেছে আপনার ব্যাংক, অ্যামপ্লয়ি বা আইআরএসের কাছ থেকে।

চিত্র-২ : ফিশিং ই-মেইলের একটি উদাহরণ

কিছু কিছু ফিশিং প্রচেষ্টা হলো বেশ অপরিণত এবং সহজে শনাক্ত করা যায়। তবে অন্যগুলো অভিজ্ঞ কাউকে ছাড়া সবাইকে বোকা বানাতে পারে। ফিশিং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুব সহজ। এজন্য একটি ই-মেইলের ভেতরের কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। যদি আপনার ব্যাংক থেকে বিশেষ উদ্দেশ্যে একটি ই-মেইল পান, তাহলে ব্রাউজারে আপনার ব্যাংকের ওয়েব অ্যাড্রেস টাইপ করে সরাসরি সেখানে চলে যান।

০৪. ফাইল স্পর্শ না করা

স্ক্যামারেরা আপনার সিস্টেমে অ্যাক্সেস পেতে পারে ইনভয়েস বা কোনো কিছুর জন্য কন্ট্রাক্ট অর্ডারের বাজে অ্যাটাচমেন্ট পাঠিয়ে। এ ধরনের অ্যাটাচমেন্ট ডকুমেন্ট সাধারণত আপনার কমপিউটারকে সংক্রমিত করে থাকে। যদি আপনি অ্যাটাচমেন্ট প্রেরণকারীকে শনাক্ত করতে না পারেন, তাহলে সেই ই-মেইলকে ডিলিট করে দিতে পারেন।

০৫. সাইবার জ্ঞানসম্পন্ন অভিভাবক হওয়া

ইন্টারনেট যুগে আপনি যেহেতু শিশুদের কাছে একজন সচেতন অভিভাবক, তাইসেক্সটিং, সাইবারবুলিস এবং ক্যাট-ফিশিং খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় সাইবার বিশ্বে নিজেকে সুশিক্ষেত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কানেক্ট সেইফলি সাইট শিশুদেরকে সাইবারবুলিস থেকে নিরাপদ রাখতে এক সহায়ক, নন-হিস্টিরিক্যাল গাইড পাবেন, যা সণ্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম, মোবাইল ফোনের জটিল প্রশ্ন বা ধাঁধাবিশেষসহ অসংখ্য বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে।

০৬. ইউটিউব সম্পর্কে ভুল না করা

যদি আপনার শিশু সন্তান ঘন ঘন অনলাইনে বিচরণ করে থাকে, তাহলে ধরে নিতে পারেন তারা অনলাইনে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে থাকে ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সাইটে। এসব কনটেন্টের বেশিরভাগই নিরীহ এবং নিষ্পাপ ধরনের, আবার কোনোটি হয় না। আপনার সন্তান ইউটিউবে কী দেখছে, সে ব্যাপারে আপনাকে সবসময় থাকতে হবে সচেতন এবং প্রয়োজনে কিছু কন্ট্রোল সেট করতে পারেন।

Kinemaster without Watermark APK | Professional Video Editing Made Easy

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

Leave a Comment