অতিরিক্ত পানি পানে বিপদ!

পানির অপর নাম জীবন।অামরা সাধারনত এটাই জানি।তবে কিছু কিছু সময় এর বিপরিত। পানি কম খেলে শরীরের ক্ষতি হয়। কিন্তু উল্টোটাও সত্যি। বেশি পানি খাওয়াও ভালো নয়। কিডনি, হার্টের ওপর চাপ বাড়বে। রক্তে ঘনত্ব কমবে। কমবে নুনের পরিমাণ। ফুলবে শরীর, মাথা। মাথার যন্ত্রণা থেকে শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে।

শরীর সুস্থ ও নীরোগ রাখতে পানির বিকল্প নেই। পানি খেলে মাথা ব্যথা কমে। পেশির শক্তি বাড়ায়। অস্থিসন্ধি ও কার্টিলেজকে রক্ষা করে। ত্বককে সুন্দর রাখে। ওজন কমায়। শরীরের জলীয় পদার্থের ভারসাম্য ঠিক রাখে। শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গকে সুস্থ রাখে।

মাথা হোক বা চোখ, দাঁত হোক বা হার্ট, ফুসফুস হোক বা কিডনি, লিভার হোক বা পরিপাকতন্ত্র, রেচনতন্ত্র, খাদ্যনালির ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে পানি। তাই পানি কম খেলে শরীরের ক্ষতি। কমবেশি সবাই জানেন এ তথ্য। কিন্তু বেশি জল খেলেও বিপদ মারাত্মক।

চিকিৎসকরা বলছেন, বেশি পানি খেলে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যায়। ফলে বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাব, অতিরিক্ত প্রস্রাব এবং মাথাব্যথা হতে থাকে। বেশি পানি খেলে শরীরে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়। হার্টের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কিডনির ছাঁকনি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় অতিরিক্ত পানি। কোষে অতিরিক্ত পানি গেলে শরীরের কোষ ফুলতে থাকে। মাথার কোষও ফুলে যেতে পারে। পরিণাম ব্রেন স্ট্রোক। অতিরিক্ত পানি শরীরের পটাসিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যার জেরে বুকে ব্যথা শুরু হয়। লিভারের সমস্যা বাড়তে থাকে। পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, চিকিত্সকদের দাবি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি শরীরে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কেউ বলেন, দিনে ৮ গ্লাস পানি তো, কেউ বলেন ২ লিটার পানিই যথেষ্ট। কিন্তু প্রত্যেকের শরীরে পানির চাহিদা সমান নয়। শরীরের গড়ন এবং আমরা কে কতটা কাজ করি, কী ধরনের খাবার খাই, তার ওপর নির্ভর করে শরীরে পানির চাহিদা।

চিকিৎসকরা বলছেন, যার যত ওজন, তাকে ৩০ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যাটা বেরোবে, ঠিক তত লিটার পানি দৈনিক পান করতে হবে তাকে। প্রতিদিন আধঘণ্টার ওয়ার্কআউট করলে আরো ৭০০ মিলিলিটার পানি অতিরিক্ত পান করতে হবে। সবজি-ফল বেশি খেলে পানি একটু কম খেলেও ক্ষতি নেই। কারণ, আমরা যে পরিমাণ পানি খাই, তার ২০-২৫ শতাংশ আসে খাবার থেকে। তাই পানি কমও নয়, বেশিও নয়। বিপদ এড়াতে পানি খেতে হবে মেপে।অামরা অবশ্যয় এ বিষশে সর্তকতা অবলম্বন করবো। কারন জীবন একটাই।

টিপসমেলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

মোঃমিজান খান

 

Share This Post

Leave a Comment