যে কথা হয়নি বলা …

কবি হেলাল হাফিজ তার এক কবিতায় বলেছেন- ‘তোমার জন্য সকাল, দুপুর তোমার জন্য সন্ধ্যা/ তোমার জন্য সব গোলাপ এবং রজনীগন্ধা’। ভালোবাসাটা অনেকটা এ রকমই। যাকে ভালোবাসা যায় তার জন্য জীবনের সবসময়, সব আনন্দ, সব সুন্দর উজাড় করে দেয়া যায়।

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আর এ ভালোবাসা যে শুধু প্রেমিক- প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য বরাদ্দ তা তো নয়। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ বা ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ সব বয়সের, সব শ্রেণী-ধর্মের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন। এটা সার্বজনীন। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার জন্যই এ বিশেষ দিন। ভালোবাসা দিবসে চলবে উপহার দেয়া-নেয়া। সেটা ফুল, কার্ড চকলেট কিংবা অন্য কিছুও হতে পারে। ভালোবাসা দিবসের বার্তা মূলত সারা বিশ্বে ভালোবাসা, শান্তি ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেয়া।

‘এ ভালোবাসা যেমন- মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মানুষে মানুষে ভালোবাসা দিনও এটি। তবে ভালোবাসা একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়। সারা বছর, সারা মাস, সারা দিন, সারাটি জীবন ভালোবাসার। কর্মব্যস্ততার কারণে কতদিন হয়তো সন্তানের বাবার পাশে বসা হয় না, মায়ের আঁচলের স্নেহের ঘ্রাণ নিয়ে জড়িয়ে ধরে বলা হয় না ‘মা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি, যতটা বলছি তার চেয়েও বেশি।’ সেই সারা বছরে বলি বলি করে না বলা কথাটি বলার দিন ভালোবাসা দিবস।

কম্পিউটারের এ যুগে প্রায় সবই যেন ভার্চুয়াল। বাবা-মা, ভাই-বোন এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে ভালোবাসার আদান-প্রধানটাও অনেক সময় সীমাবদ্ধ থাকছে কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের মধ্যেই। তবে এই ধরনের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হৃদয়ে কতটা আলোড়ন তুলে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ ভ্যালেন্টাইনস ডে’-তে তাদের পোষা প্রাণীটিকেও ভালোবাসায় সিক্ত করতে চান। পোষা বিড়াল কিংবা কুকুরটির জন্য তারা নানা আয়োজন করেন। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন আমেরিকান তার পোষা প্রাণীটির জন্য গিফট বা খাবার কেনেন। আর এ দিনে পোষা প্রাণীদের জন্য সম্মিলিত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আরেকটি জরিপ চালিয়েছে অ্যামেরিকান পেট প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন।

তাতে দেখা গেছে, শুধু পোষা বিড়াল বা কুকুর নয়, অ্যাকুরিয়ামের মাছ, পাখি, ঘোড়া ও ছোটখাটো অনেক প্রাণীই তাদের মানব বন্ধুটির কাছ থেকে নানা ধরনের খাবার ও উপহারসামগ্রী পায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউএসএ টুডে। অনেকের কাছে এটা একটু অদ্ভুত ঠেকতে পারে। কিন্তু ঘটছে আদতে সেটাই। এর কারণ তো আছেই।

কিন্তু পোষা প্রাণীটি সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবেই সুখে-দুখে মনিবের সঙ্গেই কাটায়। তাই তাদেরও তো ভালোবাসা প্রাপ্য। তারা তো আর ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা নয়। যুক্তিটা সেরকমই।

ভালোবাসা একটি দিন দিয়ে বাড়ানো কিংবা কমানো যায় না। তবে এই দিনে এসে অন্তত এইটুকু উপলব্ধি করা যায়, মানুষে ভালোবাসা ছাড়া সম্পর্কগুলোর কোনো মূল্য থাকে না বা সম্পর্কগুলো সুখহীন হয়ে পড়ে। সম্পর্কগুলো তখন আর সম্পর্ক না থেকে বোঝা হয়ে পড়ে। তাই সব মানুষের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলব। এ হোক ভালোবাসা দিবসের অঙ্গীকার।

সূত্র-Bdexpress

Share This Post
About MainitBD Author

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড! শিখবো, না হয় শেখাবো।

Leave a Comment